আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সংখ্যায় বলা হয়েছে, তারেক রহমান একজন খ্যাতনামা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, যার বর্তমান বয়স ৬০ বছর। এই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের পরের প্রথম নির্বাচন, যেখানে যুব আন্দোলনের সদস্যরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের শাসন অবসান ঘটিয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং নতুন দিশা দেখাবে। দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য সরকারের প্রভাব বাংলাদেশের ভবিষ্যতের উপর ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে, যা বিশেষ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের প্রধান প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ডিসেম্বরের শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসে, যেখানে বাসের সঙ্গে সাথে তারা তাকে স্বাগত জানায়। দ্য ইকোনমিস্ত মন্তব্য করে, ২০০৮ এর পর বাংলাদেশের নির্বাচনগুলো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে এবং দেশের ভোটার সংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ কখনোই প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারেননি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও বজায় রাখবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের জন্য যা কিছু হচ্ছে, তা মূলত নীতিগত সংস্কার ও জনগণের স্বার্থে কর্মসূচি। জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে উল্লেখ করা হয় যে, তারা নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের অগ্রগতি মধ্যবিত্তের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি দলটি কোনও নারীপ্রার্থী দাখিল করেনি। আরো বলা হয়, তারেক রহমানের জন্য এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সৃষ্টি করেছে, কারণ তার দলের জনপ্রিয়তা এখন জোরদার। উল্লেখ্য, তার পরিবারকেও বলা হয়, তারেক রহমানের বাবা বাংলাদেশে একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন, আর মা খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন। প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিতে তিনি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, তরুণদের প্রশিক্ষণে এবং জলসংকট মোকাবিলায় ব্যাপক প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। তার মতে, ২০২৪ সালে বিপ্লবের পর থেকে দেখা গেছে, জনবিরোধী সরকার তার পরিণতি ভোগ করবে। দেশে ফিরে তারেক রহমান বিভিন্ন জনের প্রত্যাশা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহে কথা বলেছেন, যদিও অনেকের কাছে তারা ‘অফ দ্য রেকর্ড’ থাকেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লন্ডন থেকে ফিরেই তারেক রহমানের চেহারায় কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ।





