চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ও কর্মচারিদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে পুরো বন্দরের কার্যক্রম এখন অচল হয়ে পড়েছে। পণ্য পরিবহন ও ওঠানামা বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতির ফলে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোন রাখে নেই।
গত শনিবার থেকে শুরু হয়ে এই ধর্মঘটে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারিরা অংশগ্রহণ করছে, এর ফলে বন্দরে পণ্য Handling সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও নীতির পরিবর্তনের দাবিতে তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার (2 ফেব্রুয়ারি) কঠোর অবস্থানে থেকে কর্মসূচি চলাকালে তারা মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুযায়ী, আন্দোলরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের বদলিও করা হয়েছে অন্যত্র। সোমবারই (2 ফেব্রুয়ারি) শ্রমিকদের বদলি করে মোংলা ও পায়রা বন্দরে পাঠানো হয়েছে। তবে এই বদলি আন্দোলনকারীদের কিছুই פחות করতে পারেনি, কারণ শ্রমিকরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকছেন।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই কোনও পরিবহন বন্দরে প্রবেশ করেনি এবং বন্দরের যন্ত্রপাতিও কার্যক্রমে না থাকায় সবকিছু থমকে গেছে। অপর দিকে, বন্দরের বাইরে রপ্তানি পণ্যসহ অন্যান্য কার্গো বহনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, কর্মবিরতির কারণে সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের বন্ধুবাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু না হলে দেশের আন্ডারন্যাশনাল নৌবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সংগ্রামস্থলের সমন্বয়কারী ও বন্দর শ্রমিক নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “বন্দরে এখন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা আমাদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিলে তারা কাজে যোগ দিচ্ছে না। আজ কোনও জাহাজ আসছে না বা চলেও যাচ্ছে না। এতে বন্দরের অপারেশনাল কাজ বন্ধের পথে।”
একজন বন্দরের র্বাথ অপারেটর জানান, অন্যান্যদিনের মতো মঙ্গলবারও তারা কাজের জন্য শ্রমিকদের বুকিং দিতে পারছেন না। জেনারেল কার্গো ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের অচলাবস্থা চলমান থাকায় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই সংকট দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক দিক থেকেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। দ্রুত এই ধর্মঘট মিটিয়ে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছেন সব পক্ষ।





