দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে অসাধারণ গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ডিসিসিআই বিশ্বাস করে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের প্রাণকেন্দ্র। কারণ দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য এই বন্দর দিয়ে খালাস হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাধারণত প্রতিমাসে গড়ে ২.৬ লাখ টিইইউ পণ্য এবং দৈনিক ৯,০০০ টিইইউ পণ্য খালাস হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। তবে গত বুধবার থেকে এই কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বন্দরে প্রায় ৫৪ হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। এই অচলাবস্থা ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করছে। ডিসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই পরিস্থিতি দেশের রপ্তানি খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা যদি চলতেই থাকে, তাহলে সামগ্রিক অর্থনীতির উপর মারাত্মক আঘাত আসতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, পণ্য জাহাজে তোলার সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা সাময়িকভাবে সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে ঝুঁকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, চট্টগ্রাম বন্দর সচলের জন্য ব্যবসায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। আলোচনা ও সমাধানের মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ডিসিসিআই।





