উখিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। রোববার ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানে ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এমন অন্তত ১৫০০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ অন্যান্য আশপাশের এলাকা থেকে এই অভিযান চালানো হয়, এবং এটি এখনো চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অভিযান চলাকালে আটককৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যৌথ বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মহাদর্বার নির্বাচনের আগে কিছু কিছু অপশক্তি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁদের সন্দেহ। এই পরিস্থিতিতে, দেশের সচেতনতা রাখতে ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। যদিও নির্ধারিত ক্যাম্পে থাকার নিয়ম থাকলেও অনেক রোহিঙ্গা স্থানীয় বাঙালিদের জমি দখল করে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছে, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আটককৃতদের বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পাওয়া যাচ্ছে। তাদের প্রথমে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা হচ্ছে কেন এবং কাদের সহযোগিতায় তারা ক্যাম্পের সীমানা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে, নির্বাচনের মধ্যে কেউ কিনা তাদের ভাড়া করে অপ্রকাশ্য কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এই সকল বিষয় অনুসন্ধান করে পরে জেলা প্রশাসন ও সংশ্ল্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনরায় নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কয়েক দিন ধরে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির পাশাপাশি এই অভিযান অব্যাহত থাকবে, যেন কোনো বহিরাগত বা অনিবন্ধিত জনগোষ্ঠী নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও সচেতনতা তৈরি করেছে।





