বরগুনা-২ (বামনা- বেতাগী-পাথরঘাটা) সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের মানুষের জন্য সুস্থ ও কার্যকর পরিকল্পনা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, অভিযোগ করা বা কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে দেশ চলে না; বরং জনগণের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান এবং অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তিনি এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। যখন দল সরকারে আসবে, তখন জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দৃঢ় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনসভার অটুট জনতার উপস্থিতি দেখে মন ভরে যায়। পুরো মাঠ কানায় কানায় ভর্তি হওয়া মানুষের উচ্ছ্বাস, আনন্দ-উল্লাস ও ‘মনি ভাই- ধানের শীষ’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, গত সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্র্যাক রেকর্ড আমরা দেখে এসেছি। তাদের কাছে কোনও সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা ছিল না এবং বর্তমানে যারা অপশাসন চালিয়ে যেতে চাইছে, তারাও পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। রাষ্ট্রের চলাকালে কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে বোঝানো যায় না; জনগণের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান এবং অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে হলে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা জরুরি। জনগণ আমাদের কাছ থেকে আশায় রয়েছেন, কীভাবে দেশের উন্নয়ন করব এবং তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করব, সেই বিষয়গুলো আদৌ পরিকল্পনা রয়েছে কি না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার এ ব্যাপারে বলেছেন, তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে গৃহিণীদের মাসিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে তারা স্বস্তিতে তাদের সংসার চালাতে পারেন এবং আর্থিকভাবে স্বপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। পাশাপাশি, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বছরে অন্তত এক ফসলের জন্য বিনামূল্যে উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
মনি আরও বলেন, তরুণ বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে, প্রবাসে যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যেন দক্ষ Workforce হিসেবে বিদেশে পাঠানো যায়। তিনি বলেন, এটাই পারে দেশ গড়ার মূল পরিকল্পনা, যা অন্য কোনও দল দিতে পারে না।
জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের কাছে তিনি প্রশ্ন রাখেন—প্রিয় ভোটাররা, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা কি আপনি অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন? এসময় জনতার কণ্ঠে ‘না’ শব্দের ঝলকানি সরাসরি প্রথিত হয়েছে।
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, আমি এলাকার উন্নয়নে সক্রিয় ছিলাম এবং এখনো থাকবো। আগে আমি যদি ভাল কাজ করে থাকি, তবে আপনাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। তিনি আরও জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফলাফলের অপেক্ষা করবেন এবং কেন্দ্রে থেকে যেন ফলাফল না বের করে ফেলেন, সেই অনুরোধ করেন।
আলোচনার পাশাপাশি, নূরুল ইসলাম মনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যদি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে গন্য করা হবে। প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার পূর্ণ মর্যাদার সাথে রক্ষা পাবে।
অন্যদিকে, ইসলামের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ভোট আদায়ের অপচেষ্টা যারা চালাচ্ছে, তাদের ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় হুমকি। তিনি সতর্ক করেন।
অন্তে, তিনি পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে সকলের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে, বারবার দোয়া ও শুভকামনায় জনসভা শেষ করেন।





