মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২

ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি পাকিস্তান, বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি, যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হচ্ছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রথমে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেও, শেষ পর্যন্ত তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। মঙ্গলবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, কূটনৈতিক ফলাফল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের অনুরোধে পাকিস্তান জাতীয় দলকে মাঠে নামার অনুমতি দিয়েছে।

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক এবং দর্শকপ্রিয় এই ম্যাচটি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে পিসিবি, বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছিল। বাংলাদেশ দলের জন্য এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর পাকিস্তানের সমর্থন ও সংহতি ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন, ভারত ম্যাচ নিয়ে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আইসিসি তাদের নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করে, ফলে পাকিস্তান এখন তাদের বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে।

মূল সংকটের কারণ ছিল ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলার অনুমতি না দিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত, যার জন্য বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তবে এখন আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে না এবং ২০২৮-২০৩১ চক্রের জন্য বাংলাদেশকে অতিরিক্ত একটি আইসিসি ইভেন্টের স্বত্ব দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সন্তোষ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং ভারতকে মোকাবিলা করার জন্য পাকিস্তানের সমর্থন চেয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা লাহোরে পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের উপর অবিচার হয়েছে এবং আইসিসির দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদে তারা ভারত ম্যাচ বয়কটের সঙ্গী হয়েছেন। আলোচনা শেষে পিসিবি তাদের দাবি পূরণ করে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন কলম্বোর ঐতিহাসিক সেই ম্যাচ দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, যা বিশ্বকাপের মহিমা এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন