মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২

অলিম্পিক স্বপ্ন ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন শায়রা আরেফিন

বাংলাদেশের শ্যুটিং অঙ্গনে একের পর এক প্রতিভাবান শ্যুটারের বিদেশী সফর ও দেশের ছেড়ে যাওয়া বড় ধরনের ভবিষ্যৎ সংকেত তৈরি করছে। শোভন চৌধুরী ও অর্নব শারার মতো তারকাদের দেশ ছাড়ার পর, এখন ড্যাফোডিলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল শ্যুটার শায়রা আরেফিন দেশের ক্রীড়াঙ্গন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজের দক্ষতায় দেশের শ্যুটিং ইতিহাসে একটি উচ্চ মানের পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। এখন তিনি নতুন জীবনের খোঁজে ইউরোপের জার্মানিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে দেশের শ্যুটিং ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘমেয়াদী অলিম্পিক পরিকল্পনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এশিয়ান গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ৬২৮ পয়েন্ট অর্জন করে দেশের সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড গড়েছিলেন শায়রা। এই অসাধারণ সাফল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন একটি সুসংগঠিত অলিম্পিক রোডম্যাপ তৈরি করেছিল এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি থেকে বিশেষ স্কলারশিপের সুবিধাও পেয়েছিলেন তিনি। তবে এখন তাঁর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ও এমনকি ওই স্কলারশিপ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফেডারেশনের সূত্র জানায়, প্রায় মাসখানেক ধরে জাতীয় শ্যুটিং ক্যাম্পে তার উপস্থিতি নেই। প্রথমে ব্যক্তিগত ছুটির হিসেব দিলেও, প্রকৃত সত্য হলো, ব্যক্তিগত জীবনের গাঁটছড়া বাঁধার পর তিনি স্থায়ীভাবে জার্মানিতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে তিনি দেশের শ্যুটিং থেকে দূরে থাকছেন।

শ্যুটিং একটি সূক্ষ্ম ও মনোযোগের খেলা, যেখানে ধারাবাহিক অনুশীলন অপরিহার্য। একজন শ্যুটার দীর্ঘ সময় ক্যাম্পের বাইরে থাকলে মানসিক প্রস্তুতি ও ফোকাস বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মতে, শায়রার এই সিদ্ধান্ত দলের পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। নতুন কাউকে প্রস্তুত করা বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার কাজ এখন জরুরি। কোচ এবং কর্মকর্তারা মনে করছেন, শায়রার মতো প্রতিভাবান শ্যুটারের বিদায় দেশের জন্য শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রস্থান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অলিম্পিক স্বপ্নের অপমৃত্যু হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের শ্যুটিং ফেডারেশন বর্তমানে একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শায়রার দক্ষতা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নত করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের গুরত্বে সেই সম্ভাবনাটি পিছিয়ে গেছে। এশিয়ান গেমস ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় তার ধারাবাহিক স্কোরের ভিত্তিতে দেশের শ্যুটিংয়ের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। এখন তার অনুপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নতুন পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। এই প্রস্থান একาจ বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন, যা প্রমাণ করে যে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যে পৌঁছাতে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং সংকল্প কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।

পোস্টটি শেয়ার করুন