শুক্রবার, ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩০শে মাঘ, ১৪৩২

বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর বিক্রির মূল্য পৌঁছাতে পারে ১ ট্রিলিয়ন ডলার

বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে এই বছর একটি নতুন ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। শিল্প খাতের শীর্ষ সংগঠন সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এসআইএ) পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর এই বাজারের আয় ছুঁতে পারে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১ ট্রিলিয়ন ডলার। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ৯৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে এই সংগঠনের, যার সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এর সাথে আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে চিপ বিক্রির যা বৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেটি হবে প্রায় ২৫.৬ শতাংশ। এর ফলে বিক্রির মূল্য দাঁড়াতে পারে ৭৯১.৭ বিলিয়ন (৭১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার) এর কাছাকাছি।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সেন্টার ও উচ্চ প্রযুক্তির অবকাঠামোগত বিনিয়োগের কারণে এই অঙ্ক আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইডিসি আরো বলছে, ২০২৫ সালে এই খাতের আয়ের সম্ভাবনা থাকবে রেকর্ড ৮০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করার। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনভিডিয়া, এএমডি এবং ইন্টেলের মতো বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি উন্নত কম্পিউটিং চিপের বিক্রির আর্দ্রতা আগামী বছর গড়িয়ে ৩৯.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে কিছুটা ৩০১.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। পাশাপাশি বড় চাহিদা থাকায় মেমোরি চিপের বিক্রি ও সরবরাহের ঘাটতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এর মূল্য ৩৪.৮ শতাংশ বেড়ে ২২৩.১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই শিল্পের নেতৃস্থানীয় ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী জন নিউফার জানান, ২০২৬ সালেও এই চলমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা এখন কোনও কম অর্ডার দেখছি না। আগামী এক বছরের মধ্যে এই খাতের প্রবৃদ্ধি অনেক শক্তিশালী হবে।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ২০২৫ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড গড়েছে, যা প্রায় ৮০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে এই বিক্রির পরিমাণ বিশ্বব্যাপী ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে।”

জন নিউফার আরো মনে করছেন, আধুনিক সব প্রযুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে এই সেমিকন্ডাক্টর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ৬G ও স্বয়ংক্রিয় চলন্ত গাড়ির মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগুলো চিপের ডিমান্ডকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ কারণে নীতিনির্ধারকদের উচিত এমন নীতিমালা প্রণয়ন করা যা আগামী কিছু বছর স্থানীয় চিপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।” এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো – যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান – এই শিল্পের নেতৃত্বে রয়েছে, এবং এই ক্ষেত্রের উন্নতি বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পোস্টটি শেয়ার করুন