সম্প্রতি শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হয় সংবিধান অনুযায়ী, যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ১৫০টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে এই বিজয়ের পরই নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হলেও কিছু আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংবিধানের নির্দেশনা অনুসারে, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাধারণত, এই শপথ পাঠ করান স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। তবে বর্তমানে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে কেউ নেই, কারণ সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় এই দায়িত্বে থাকা কেউ নেই। এছাড়া, সাবেক ডেপুটি স্পিকারের কারাগারে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে, স্পিকারবিহীন সংসদে শপথ পড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, বিষয়টির সমাধান সংবিধানেরই দৃষ্টিতে রয়েছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। গেজেট প্রকাশের পরপরই শপথের আয়োজন করা হয়। তবে, বর্তমানে স্পিকার না থাকায়, সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এর ప్రకারে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্ব নিতে পারেন। এর আগে, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে বা অন্য কোনও উপযুক্ত ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। যদি তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো না হয়, তবে পরবর্তী তিন দিনে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সরকার এই সময়ের মধ্যে দ্রুত শপথ সম্পন্ন করতে চান, যাতে দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে যায়। প্রেস সচিবের মতে, সাধারণত গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগে, তবে সরকার চায় দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে। ধারণা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির ১৫ বা ১৬ তারিখের মধ্যে গেজেট ও শপথ প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে, আর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে এ সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। সব ঠিক থাকলে, নির্বাচনের এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। শপথ গ্রহণের পরই সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য অনুরোধ করবেন। যিনি ১৫১ বা তার বেশি আসনে বিজয়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাবেন এবং শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা শপথ নিলে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যভার গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা সংবিধানানুযায়ী নতুন সরকারের হাতে হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।





