আসন্ন নির্বাচনের কারণে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ব্যাপক গতিশীলতা দেখা গেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ৯ দিনে প্রবাসীরা দেশের জন্য মোট ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশি কারেন্সিতে প্রায় ১৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকার সমমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে আসছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২.৩ শতাংশ বেশি। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত উৎসবের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে বৃদ্ধি দেখা যায়, কিন্তু এইবার নির্বাচনী আবহে প্রবাসীদের থেকে অর্থ পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, বিভিন্ন প্রার্থী তাদের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের জন্য এই প্রবাসী আয়ের অংশ ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসেই নয়, বরং ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেও লক্ষ্য করা গেছে, যখন দেশের জন্য যথাক্রমে ৩২২ ও ৩১৭ কোটি ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে অর্জিত মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বজায় রাখতে এবং ডলারের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে, নির্বাচনের কারণে ব্যাংকগুলো গত চার দিন বন্ধ থাকায় প্রবাসী ও সাধারণ গ্রাহকেরা অর্থ উত্তোলনে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। সরাসরি শাখা থেকে টাকা তুলতে না পারায় তারা এখন মূলত এটিএমের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে প্রত্যেকবার সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা সম্ভব। উপরন্তু, নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তর ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে, ব্যাংকের অবরুদ্ধ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এখন মূলত এটিএম কার্ডের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।





