দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে এক ঐতিহাসিক মুহুর্তের অপেক্ষা অবসান হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান, যা দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল ও জমকালো অনুষ্ঠানটি গণমানুষের প্রত্যাশা ও দলের জয়োল্লাসের মেলবন্ধন হিসেবে চিহ্নিত হবে। দেশের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, যেখানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করবেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ meticulously পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাক্ষী হতে দেশ-বিদেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট ও যুক্তফ্রন্টের জয় লাভের পর এই শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে দেশের নতুন সরকার পরিচালনার প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। এবারের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত থাকছেন, যেমন: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোমগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিকুসও। এছাড়াও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু বিষয়টি শেষ মুহূর্তে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত। পশ্চিমা বিশ্ব থেকেও যোগ দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদল, এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব যোগ করছে। অনুষ্ঠানটি শুরু হবে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। এর মধ্যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজয়ীদের শপথ পড়াবেন সকাল ১০টায়, এরপর ১১:৩০ থেকে ১২:০০ এর মধ্যে বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন এবং দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি। এর আগে গতকাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বর্তমান সরকারের মেয়াদ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক উন্মুক্ত স্থানে এই অনুষ্ঠান হবে, যা এক বিশেষ আবহ তৈরি করবে। প্রথামত, এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন বিচারপতি, তিন বাহিনী, দেশের শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শীর্ষ পর্যায়ের ব্যস্ততার কারণে তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তার পরিবর্তে ভারতের স্পিকার ও পররাষ্ট্রসচিব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের ভবিষ্যত দিগন্তে এক নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পথে যাত্রার সূচনা করবে। জনগণের প্রত্যাশা ও আস্থা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের।





