বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় এক দিন এসে গেছে, যখন দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্বে থাকার পর, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনের শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবের পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অর্থনীতির এই ইতিবাচক অগ্রগতির পিছনে মূল হয়েগেছে দেশের প্রবাসী আয়ের বা রেমিট্যান্সের অবিশ্বাস্য প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈধ পথে বিদেশি মুদ্রা পাঠানোয় প্রবাসীদের আগ্রহ ব্যাপকভাবেই বেড়েছে। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারীতেই প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট মোকাবেলায় দারুণ সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। ফেব্রুয়ারিতেও এই প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে; প্রথম ১৬ দিনে দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ডলার। এই রেমিট্যান্সের প্রবাহের পাশাপাশি, দেশের আমদানির ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রপ্তানি আয়ের স্থিতিশীলতা বজায় থাকাই রিজার্ভের শক্তিশালী হওয়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় আরও বেশি থাকায় কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। প্রবাসী আয়ের এই আধিপত্যের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের পরিমাণ বেড়েছে, ফলে ডলারের দামে কিছুটা কমার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও মুদ্রাবাজারের ভারসাম্য রক্ষা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে, যা রিজার্ভের পরিমাণ আরও বাড়াচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ দেশের জন্য এক বিশাল সম্পদ। এটি কেবল বৈদেশিক বাণিজ্য ও ঋণ পরিশোধে সহায়তা করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করবে। নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য এই ভাণ্ডার এক ধরনের শক্তির উৎস হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে এবং ব্যবসার খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এই রিজার্ভের উল্লম্ফন দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ বার্তা দিচ্ছে।





