বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২

সাংবাদিকদের সমস্যা ছাড়া গণমাধ্যমের উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

দেশের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে সাংবাদিকদের পেশাগত ও জীবনযাত্রার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও দাবিগুলো অমীমাংসিত থাকলে গণমাধ্যমের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার এই প্রেস ক্লাবে এসে তিনি সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময়কালে জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা অপরিহার্য, এবং বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের পরিবর্তে এটিকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি সাংবাদিকরা নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে রাষ্ট্রের নানা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। প্রেস ক্লাব পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ের সংবাদপত্রের সংকট, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়গুলো তুলে ধরেন। মন্ত্রী ধৈর্য্যসহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং সকল সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সরকার গণমাধ্যমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবাদিকদের সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যতের পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকারের এই আয়োজনში সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরা, বিশেষ করে বিএনপি থেকে আসা সংবাদকর্মীরা। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নতুন তথ্যমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর মেয়াদে গণমাধ্যম একটি নতুন প্রাণশক্তি পাবে। সবমিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম দিনেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকবান্ধব এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন