নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিন থেকেই দেশের প্রচলিত ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো অরাজকতা বন্ধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিগত দেড় বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, যা উন্নত করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি আরো জানান, আইনের শাসন ও জন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি উন্নত করতে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী- এই প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ‘নেশন বিল্ডিং’, অর্থাৎ দেশের পুনর্গঠন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুসংগঠিত ও বাস্তব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন এবং সেই ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর বাস্তবায়নের জন্যই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রী জনগণের সমস্যা সমাধান ও দেশের অগ্রগতির জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন বলে তিনি জানান।
গণতন্ত্রকে দেশ পরিচালনার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে অভিহিত করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সরকারের সকল পদক্ষেপে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর ভূমিকা অনেক বেশি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানান, তিনি আগের সময়েও স্থানীয় সরকারের সাথে কাজ করেছেন এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল ও মানুষের জন্য উপযোগী করে তুলতে চান, যাতে গ্রামীণ এবং নগর حياتের পরিবর্তন ঘটে।
দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘ভঙ্গুর’ অবস্থা নিয়ে প্রকাশিত প্রশ্নে মির্জা ফখরুল এক ধরনের ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাস্তবে পরিস্থিতি যতটা খারাপ ভাবা হচ্ছে, তা মোটেও সত্য নয়। তাঁর দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত হয়েছে এবং মৌলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তিনি অভিহিত করেন। তিনি আরো জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও উন্নতি সম্ভব, যদিও বিশাল কোনও গণআভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পর সবকিছু একসঙ্গে স্বাভাবিক না-হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার।
বিগত নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং সবাই একে অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারের রাজনৈতিক মনোভাব ও সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে জানানো হবে। তাঁর মতে, বিদায়ী অস্থায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনও শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, অস্থায়ী সরকার সময়মতো দায়িত্ব নিয়েছে এবং গণতন্ত্রের পথ সুগম করতে সফল হয়েছে। এ জন্য তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সংক্ষেপে, নতুন সরকারের যাত্রা শুরুতেই শৃঙ্খলা এবং উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি দেশের সার্বিক অগ্রগামী পথে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।





