বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম পতনের নতুন এক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাশিয়া ও ভারতের দীর্ঘদৈর্ঘ্যগং বাম্পার ফলন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের খবরের কারণে শস্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চীনে চাহিদা হ্রাস এবং প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে এই দাম কমার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড (সিবিএটি) এবং অন্যান্য বিশ্ববিখ্যাত পণ্য বিনিময় কেন্দ্রগুলোতে গতকাল শস্যগুলোর মূল্য দ্রুত下降 হয়।
বিশ্ববাজারে গতকাল গমের মূল্য ১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি বুশেল ৫ ডলার ৪১ সেন্টে নেমে এসেছে। রাশিয়ার কৃষি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান আইকেএআর এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাশিয়া গম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড করবে, যা প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টন হবে। এটি বিশ্লেষকদের আশা অনুযায়ী, আগের পূর্বাভাসের তুলনায় অন্তত ৩০ লাখ টন বেশি। রাশিয়ার এই দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়া উৎপাদন এবং ভারতের পুনরায় ২৫ লাখ টন গম রপ্তানির অনুমোদন বিশ্ববাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্তের দিককে আরও শক্তি দিচ্ছে। ফলে গমের দাম আরও কমে যাওয়ার প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, সয়াবিনের বাজারেও দাম আগের মতোই পতনে রয়েছে। গতকাল সয়াবিনের মূল্য ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি বুশেল ১১ ডলার ২৬ সেন্টে বিক্রয় হচ্ছে। এর জন্য মূলত চীনে চন্দ্র নববর্ষের ছুটি ও শিল্পের চাহিদা হ্রাসের জন্য এই দর পতন ঘটছে। চীনে এই ছুটির সময়ের মধ্যে সয়াবিনের চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা নিচে নেমে এসেছে, যা সম্ভবত ছুটির শেষের আগে অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া ভুট্টার বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল ভুট্টার দাম ০.৬ শতাংশ কমে বুশেলপ্রতি ৪ ডলার ২৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যদিও বিশ্বে ভুট্টার সরবরাহ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও, চীনের অভ্যন্তরীণ বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত ভুট্টার মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে চীন ভুট্টার বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলীয় যব ও মার্কিন সরগমের আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কৌশলগত পরিবর্তন ভুট্টার বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মূল আমদানিকারকদের কৌশলী অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে এই তিন খাদ্যশস্যের দাম এখন সাধারণ ক্রেতা ও আমদানিকারকদের জন্য আকর্ষণীয় ও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।





