বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে

পারমাণবিক সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, ইরান হরমুজ প্রণালী এক চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি), এই আকস্মিক পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। এই প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ, এর আগে কখনো এত গভীর সংকটে পড়েনি। ১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের পরে এটি ছিল প্রথমবার যখন তেহরান আন্তর্জাতিক জলসীমাকে বন্ধের ঘোষণা দিল।বিশ্ব অর্থনীতি ও বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা গেছে। কারণ, এই সংবেদনশীল প্রণালী দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের মূল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহিত হয়।প্রাথমিকভাবে, ইরান জানিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তটি তার নৌবাহিনী ও সমুদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে নেয়া হয়েছে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে অনুষ্ঠিত এক সামরিক মহড়ায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাজা ক্ষেপণাস্ত্র ‘লাইভ মিসাইল’ ছুড়ে দেখিয়েছে তাদের শক্তি। এই মহড়ায় অংশ নিয়েছিল সমুদ্র নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি মার্কিন প্রশাসনের ওপর একটি শক্তির প্রদর্শনী, যেখানে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা নিজেদের আত্মরক্ষা করতে প্রস্তুত। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিশ্বসত্ত Cymru্যান্ড সামরিক শক্তির এই শ্রেণী মাঝে-মাঝে এমন চড় খেতে পারে যে, তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আরও আঙ্গুলে দেখিয়েছেন যে, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের জন্য বড় বিপদ, যা মুহূর্তে জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম।খবর অনুযায়ী, ইরান এই উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘে আয়োজিত নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বললেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর জন্য তারা নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তবে স্পষ্ট করে দেন যে, বিদেশী শত্রুদের মোকাবিলায় ইরান এখন আগের থেকে আরও বেশী প্রস্তুত।অপরদিকে, মার্কিন দলের নেতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এখনও গোপনীয়তা রক্ষা করছেন, তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলছেন যে, আলোচনা এখনো ফলপ্রসূ। তিনি মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক ফল দিয়েছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু লাইন বা সীমা রয়েছে যা ইরান মানতে বাধ্য নয়।বিশেষ করে, গত সপ্তাহে, ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আগামী দুই সপ্তাহে ইরান যে বিস্তারিত প্রস্তাব দেবে, তা পারমাণবিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্ব।

পোস্টটি শেয়ার করুন