নিম্নআয়ের মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কার্যাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই প্রকল্পের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নের বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও গতিশীল করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কার্ড বিতরণে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না ঘটে, সে জন্য কঠোর তদারকি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের যাওয়া-আসার সমস্যা না হয় এবং তারা সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেটাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, নতুন সরকারের উন্নয়ন এবং কল্যাণমুখী নীতি অনুসারে এই ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব অনেক। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কারিগরি প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে এবং সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল ফিতরের আগে দেশের সাধারণ মানুষ পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা গ্রহণ শুরু করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাল, ডাল ও তেলসহ অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময় এই ফ্যামিলি কার্ড সাধারণ মানুষের জন্য বড় এক স্বস্তির বার্তা হিসেবে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হওয়ায় এর বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সচিবালয়ের এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সরকারের জনবান্ধব অর্থনৈতিক সংস্কার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। যদিও প্রকল্পটি আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে এটি পুরো দেশজুড়ে একটি স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।





