বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রত্যেকটি চুক্তি এর মূলনীতি ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য এই চুক্তিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় থাকলে তা বাতিল বা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব বার্তা দেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া একান্ত দরকার। বিশেষত, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য বর্তমান সরকারের উদ্যোগ বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন তিনি। ইতিমধ্যে, এই বিষয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও সুপারিশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন নীতিহোক গোড়া থেকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য একটি ‘ট্রানজিশন দল’ বা রূপান্তর কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা অতীত ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও কারিগরি মূল্যায়ন করবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সরকারের জন্য কিছু সময় নিয়ে ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, এখন জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সরকার কি দ্রুত গতিতে কাজ করবে (স্প্রিন্ট), নাকি ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোবে (ম্যারাথন)। তিনি জোর দেন, চলমান অর্থবছরের সাথে সম্পর্কিত সূচকগুলো মাথায় রেখে বড় ধরণের পরিবর্তন এড়িয়ে চলা ভালো, বরং পরবর্তী অর্থবছরের জন্য অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অতীতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তার ব্যর্থতা কেন ছিল তা উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় জানান, দীর্ঘ ১৮ মাসে এই সরকার কোনও কার্যকর অর্থনৈতিক রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে পারেনি। যদিও বিদায়ী পরিকল্পনামন্ত্রী একান্তে একটি প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সমাধানে এরকম এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়াটা আদৌ কাম্য ছিল না। তিনি পরামর্শ দেন, নতুন সরকার যেন স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করে, যাতে দেশের অর্থনীতির অস্থিরতা কিছুটা কমে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এই সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট নাগরিক, অর্থনীতিবিদরা অংশ নেন এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক_core জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





