মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যে শুল্ক আরোপিত আছে, তা একইরকম থাকলেও সরকার এই চালু ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক সাক্ষাৎকারে দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুল্কের হার অপরিবর্তিত থাকলেও, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপ্তরিক কাজ সহজ করতে এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে তাদের জন্য দীর্ঘ জটিলতা কমে যায় ও কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্ক সংক্রান্ত জটিল নিয়ম ও কাঠামো অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করতে হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। মার্কিন সরকার চায় না যে, ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাজে এতটাই জড়িয়ে থাকুক যে তাদের মূল ব্যবসা ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য শুল্ক প্রয়োগের পদ্ধতিকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ীরা সহজে কাজ করতে পারেন এবং তাদের উৎপাদন ও ব্যবসা আরো বাড়ানো সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, এই শুল্ক ব্যবস্থা সফলভাবে কার্যকর হয়েছে এবং এর ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ শিল্প নতুন করে জোড়ালোভাবে উন্নত হয়েছে। এর পাশাপাশি, এই কঠোর শুল্কনীতির কারণে অন্যান্য দেশও তাদের শুল্ক বাধা ও অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমানোর বাধ্য হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এই সব উন্নতি দেখে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন সরকার চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা মোকাবিলা এবং মার্কিন শিল্পের সুরক্ষার জন্য বিদেশী ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে এই ধাতুগুলো দিয়ে তৈরির বিভিন্ন চূড়ান্ত পণ্যের ওপরও শুল্কের পরিধি বাড়ানো হয়। এর ফলে আমদানিকারকদের জন্য কাঁচামালের উৎস ও অনুপাত নির্ণয় করা অনেক জটিল এবং ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মার্কিন সরকার এই জটিলতা কাটিয়ে একজন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে নতুন পরিকল্পনা করছে, যাতে আমদানির গতি এবং দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং মার্কিন উৎপাদন ক্ষেত্র আরও সুসংহত হয়।





