জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যা তাকে একটি রাজনৈতিক পরিচিতিতে নিয়ে এসেছিল। তিন বছরের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ধাপে ধাপে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাশাপাশি বিএনপির মিডিয়া সেল প্রতিষ্ঠার আয়োজক ও আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর পরিশ্রম ও দক্ষতার ফলে তিনি দলের অঙ্গসংগঠন ও নেতৃত্বে অবদান রাখেন এবং পরে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, তিনি নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই খবর তাকে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক উচ্ছ্বাসে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ আনন্দে ভ্যানগাড়ি, মিষ্টি বিতরণ করে এবং আনন্দ মিছিল করে তাঁর জন্য শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৮ সালে তৃতীয়বারের জন্য এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে তিনবার তিনি সংসদে নেতৃত্ব দেন, যা তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবনের milestones।
তিনি বিএনপির অন্যতম ত্যাগী নেতা, এবং তাঁর প্রচেষ্টায় দেড় যুগ পর এ আসনটি পুনরুদ্ধার হয়। এর আগে, তিনি বিভিন্ন সময় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, যেমন পাবলিক অ্যাকাউন্টস ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর এই দায়িত্বগুলো সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বপনের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। তিনি দুইবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষা সহ মানব নিরাপত্তা বিষয়ক কাজেও জড়িত। তিনি ‘প্যার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন’ (পিজিএ)-এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক কৌশল, নীতি বিশ্লেষণ, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দক্ষ কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ। তাদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমি দায়িত্ব পালন করব। আমি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’





