শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২

নামিবিয়াকে উড়িয়ে পাকিস্তান সুপার এইটে নিশ্চিত করে প্রাণবন্ত জেতা

ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি ছিল বিশেষ এক মুহূর্ত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কঠিন লড়াইয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যেখানে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগার দুর্দান্ত নেতৃত্ব ও শাহিবজাদা ফারহানের অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরি দলের জয়কে নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে, গ্রুপ ‘এ’ থেকে মাত্র ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে পাকিস্তান। এর আগে এই গ্রুপ থেকে ভারত ইতিমধ্যেই পরবর্তী ধাপে প্রবেশের জন্য নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছিল। পাকিস্তানের এই দাপুটে ম্যাচ জয় বিশ্বক্রিকেটের মানুষকে আরও উজ্জীবিত করে তুলেছে। এই ফলাফলের ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলো গভীর হতাশা স্বীকার করে নি:সন্দেহে, কারণ তারা টুর্নামেন্টের এই পর্ব থেকে বিদায় নিল। অন্যদিকে, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকলেও, পাকিস্তান এখন পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও দলীয় একতান এই জয়ের মূল কারণ। ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব শুরুতেই আক্রমণে যান, প্রথম জুটিতে তারা ৩১ বলে ৪০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত্তি স্থাপন করেন। সাইম হারালেও, ফারহান অবিচল থাকেন এবং অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে ৪২ বলে ৬৭ রানের চমৎকার জুটি গড়েন। এরপর, ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হওয়ার পর, চতুর্থ উইকেটে শাদাব খানকে সঙ্গে নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ফারহান। এই জুটি মাত্র ৪০ বলের মধ্যে ৮১ রান যোগ করে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। নিজের ক্যারিয়ারে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি হাঁকাতে সফল হন তিনি, যা হয়ত পাকিস্তানের জন্য এক অনন্য ইতিহাস। ৫৭ বলের ইনিংসে ১০০ রানের এই ইনিংস ছিল দলের নির্ভরতার প্রতীক। শাদাব খানও ২২ বলে ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে সহায়তা করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করে পাকিস্তান। লক্ষ্য বড়, কিন্তু নামিবিয়ার ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই বিপদের মুখে পড়ে। উসমান তারেক ও শাদাব খানের কাছ থেকে স্পিন জাদু দেখে ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা হয়ে যান। কেউই উইকেটে দাঁড়িয়ে ব্যাট চালাতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প, আর আলেকজান্ডার বাসিং ভোলশেঙ্ক ২০ রান করেন। বাকিরা আবার আসা-যাওয়া করে আর মাত্র ১৭.৩ ওভারে ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়া, যা ছিল তাদের জন্য এক বিশাল অপূরণীয় ক্ষতি। পাকিস্তানের পক্ষে উসমান তারেক ৩.৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, আর শাদাব খান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। এই বড় জয় পাকিস্তানের জন্য মানসিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে, কারণ বিশ্বকাপের এই কঠিন পর্বে তারা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে। শাহিবজাদার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং শাদাব খানের অলরাউন্ড ক্যাটারাও দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। এখন মূল লক্ষ্য হল, সুপার এইটে আরো ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করা। পাকিস্তান এই বিশ্বকাপ অভিযান আরও উজ্জ্বল করার পথটায় এগোচ্ছে, যেখানে প্রত্যাশা কেবল বাড়বে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এই জয় দলের মনোবল আরও বাড়িয়েছে, এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জে তারা জয়ী হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছেন। এখন দেখার অপেক্ষা, কিভাবে পাকিস্তান নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়ে সুপার এইটে আরো এগিয়ে যাবে। তবে আজকের এই জয় নিশ্চিত করলো, পাকিস্তান বিশ্বক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন