শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২

পড়ন্ত চর থেকে রূপকথার মতো উত্থান: প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নুর

পটুয়াখালীর নদীবেষ্টিত ও দুর্গম চরবিশ্বাস ইউনিয়নের সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা নুরুল হক নুর এখন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছেন। তিনি সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে নতুন এক সূচনার কথা ঘোষণা করেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। এই সফলতা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে গর্ব ও অনুপ্রেরণার এক নতুন স্পন্দন জাগিয়েছে, কারণ তিনি ছিলো চরাঞ্চলের সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মানুষ।

নুরুল হক নুরের জন্ম ১৯৯১ সালে। শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতা তার জীবনকে ছুঁয়ে গেছে। মাত্র আড়াই বছর বয়সে তার মা মারা যান, তখন তার পরিবারের সহায়তায় তিনি বড় হয়ে ওঠেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় নিজ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, এরপর স্থানীয় জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গিয়ে ২০১০ সালে এসএসসি ও ২০১২ সালে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকায় যান ও ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনৈতিক সক্রিয়তায় যুক্ত হন এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন জয়ী হয়ে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন, যেখানে তিনি ‘ভিপি নুর’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি গণ অধিকার পরিষদের নেতৃত্বে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২৩ সালে দলের সভাপতি হন। নিজের রাজনৈতিক পথচলায় বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি দৃঢ়ভাবে তার পথ অব্যাহত রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার একজন শিক্ষিকা। তাদের দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবারের দায়িত্ব ও রাজনীতির বাগদান সামলে তিনি জনকল্যাণে কাজ করে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

নুরের এই সফলতা তার পরিবার ও স্থানীয় মানুষের কাছে সততা, অধ্যবসায় ও সংগ্রামের ফল হিসেবে মানা হয়। চরাঞ্চল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানোর তার গল্প তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এই গল্প proves করে যে, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় প্রত্যয়ে কেউ আরেকটি সম্ভার থেকে বড় আকারে উঠে আসতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন