সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২

সোনারগাঁয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পরিবারের পাশে নতুন সাংসদ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। সম্প্রতি, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার সময় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই স্বর্ণলংকার, নগদ টাকা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে যায়।  

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকালেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে উপস্থিত হন এবং তাদের ক্ষতে সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক চেয়াম্যান রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সংসদ সদস্য বলেন, এই দুর্দিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আমি আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন অসহায়ভাবে জীবনযাপন না করে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার নুরুল আলমের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশেপাশের ১৮টি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যত পুরো পরিবারগুলো পুড়ে যায়। যদিও প্রাণে বেঁচে গেছে পরিবারের সদস্যরা, তবে তারা কোনোক্রমে বের হতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্তরা জানাচ্ছেন, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তারা কিছুই নিতে পারেনি। আগুন লাগার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে শর্টসার্কিট, যা দ্রুত সংস্পর্শে আসে জুম্মান মিয়া, নুরুল আলম ও মাহিজ উদ্দিনের বাড়িতে।

ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল আলম জানান, শিল্প এলাকা হওয়ায় তাদের বাড়িতে মোট ১০টি কক্ষে ১০টি পরিবার ভাড়া থাকতেন। আগুন লাগার পড়ে খুব দ্রুত সবকিছু পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও, জীবন বাঁচানোর জন্যে ধৈর্য্য ধরে বের হতে হয়েছে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জাহেদ চৌধুরী জানান, অগ্নিকা-ে তিনটি বাড়ির মোট ১৮টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় এখনো সম্ভব নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন