সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ইশরাক হোসেনের ১০ দিনের কার্যপরিকল্পনা ঘোষণা

ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ১০ দিনের অস্থায়ী এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে আসন্ন রমজান মাসের পূর্ব প্রস্তুতি এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ধারাবাহিক কার্যক্রমের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। এই প্রাথমিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এলাকার গ্যাস সংকট সমাধান, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, মাদক বিরোধী কঠোর অভিযান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং জানান, স্থানীয় থানাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভার মাধ্যমে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, অবহেলিত পুলিশ ফাঁড়িগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধ দমনে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। মাদক বিরোধী বিশেষ যুদ্ধ ঘোষণা করে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এলাকার সকল মাদকের স্পট বন্ধ করা হবে এবং মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে অবস্থানরত মাদক কারবারিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও তিনি দিয়েছেন।

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য গোপন নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শনকে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া, অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে যৌথ অভিযানে নামার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হবে। যানজটমুক্ত রাখতে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে। অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে চলাচল সহজ করার ওপরও জোর দিয়েছেন।

ঈদের আগে ও পরে সময়ের জন্য ‘প্রাধান্য স্তর-২’ নামে আরেকটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলো ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা করে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার ও নিয়মিত পানি ছিটানোর কার্যক্রম চালু করা হবে। মূলত, ওয়াসা ও তিতাস গ্যাসের মতো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে ঢাকা-৬ আসনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বসবাস-প্রিয় এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন