জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি কার্যক্রমে বাঁধা সৃষ্টি এবং মার্কেট বন্ধের হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব)। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপি বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডলের নেতৃত্বে চকবাজার থানার মৌলভীবাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়, দেওয়ান ট্রেডার্স নামে এক ব্যবসায়ী ১০ দিনের মধ্যে ছোলার দাম কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা দাবী করেন, বেশি দামে কেনার জন্য তারা পণ্যটি কিনেছেন, যদিও তারা কোনো বৈধ ক্রয়সংক্রান্ত কাগজ দেখাতে পারেননি। বরং স্বীকার করেন, পণ্য কিনে পরে টাকা পরিশোধের জন্য ক্যাশ মেমো না দিয়ে বাকিতে বিক্রি করেন। যা ভোক্তা অধিকার রক্ষা আইন, ২০০৯-এর পরিপন্থি এবং বাজারে অস্বচ্ছতার প্রমাণ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এর জন্য ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো জরিমানা না দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং উকিলের মতো উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। তিনি অন্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করে দোকানপাট বন্ধের হুমকি দেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়। এসব ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় উদ্বেগজনক।
ক্যাবের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাজার ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি, যা সরকারি দায়িত্বে বাধা দেয়। এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি বিভিন্ন দাবিও জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. তদারকি অভিযানে বাধা ও মার্কেট বন্ধের হুমকি দাতাদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি দেওয়া;
২. বাজার তদারকি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নিশ্চিত করা;
৩. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর যথার্থ ও কার্যকর প্রয়োগ করে অযৌক্তিক মূল্যের বৃদ্ধি, অস্বচ্ছ লেনদেন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা;
৪. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ ক্যাশ মেমো প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং এর অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া;
৫. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ী সংগঠনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঢাকাসহ সারাদেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম জোরদার করা।





