রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর প্রদেশে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বোয়িং বিধ্বস্ত হয়ে তিন জন আরোহীর জীবনাবসান হয়েছে। ঘটনার দিন, গত শুক্রবার, হেলিকপ্টারটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর শক্তিশালী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিলেন চালকসহ তিনজন।
আমুর অঞ্চলের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নিখোঁজ হওয়া ‘রবিনসন’ মডেলের হেলিকপ্টারটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের দেহ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ সংগ্রহ করেছে। প্রথম দিকে, আপাতদৃষ্টিতে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর, উদ্ধারকারীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকা খুঁজে দীর্ঘক্ষণ অভিযান চালিয়েছেন এবং ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
তবে, এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। অভিযোগ, প্রাথমিক তদন্তে বড় ধরনের আইনি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের দিকগুলো উঠে এসেছে। পূর্ব-সাইবেরীয় পরিবহন প্রসিকিউটরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত পাইলটই এই হেলিকপ্টারটির মালিক ছিলেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই পাইলটের কোনও বৈধ অনুমতি বা লাইসেন্স ছিল না; এবং এটি সরকারি নিবন্ধনও করা ছিল না। ফলে, নিবন্ধনহীন ও অনুমতিহীনভাবে এই আকাশযানে পরিচালিত হওয়ার সময়ই এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে।
উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ, দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে। মৃতদেহগুলো শনাক্তকরণের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রাশিয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছোট ছোট হেলিকপ্টার বা বিমান পরিচালনায় কঠোর নিরাপত্তা আইন থাকা সত্ত্বেও, এই ঘটনায় নিয়মের বাহিরে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে তদন্তকারীরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকা জুড়ে।





