মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

জানুয়ারি মাসে সড়ক-নিরাপত্তায় বড়ো ক্ষতি: ৫৪৬ প্রাণ হারাল প্রাণহানির রিপোর্ট

জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত ও ১,২০৪ জন আহত হয়েছেন, যা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন, এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এ সব দুর্ঘটনায় সড়ক, রেল ও নৌ—মিলিয়ে মোট ৫৯৭টি ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৮৬ জনের এবং আহত হয়েছেন ১,২৩৮ জন।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন। এতে জানানো হয়, খবরের মাধ্যমে সংগৃহীত ও মনিটরিংড হওয়া রিপোর্টে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মোট ২১০টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭.৮৬ শতাংশ এবং নিহতের ৪০.৮৪ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩২ দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৯ দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চালক ছিলেন ১৩১ জন, পথচারি ৮৯ জন, শিক্ষার্থী ৭৯ জন, নারী ৬২ জন, শিশু ৬৭ জন ও পরিবহন শ্রমিক ৫৩ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১২৭ জন চালক, ৮৯ জন পথচারি, ৫৪ নারী, ৪৮ শিশু, ৫৭ শিক্ষার্থী, ২১ পরিবহন শ্রমিক ও ৮ জন শিক্ষক।

এ সময়ে দুর্ঘটনায় জড়িত রয়েছে মোট ৮২৯টি যানবাহন, এর মধ্যে ২৮.৪৬ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, এবং ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৮.৩৬ শতাংশ ঘটনায় গাড়িচাপা, ২৮.৬২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ১৬.৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া, ৪২.৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার সড়কে।

সংগঠনটি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নীতিগত দুর্বলতা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে যানচলাচল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও নছিমন, করিমন নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন ও ডিভাইডারের অভাব।

সংগঠনটি সুপারিশ করছে, উন্নত দেশের মতো কার্যক্রম চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান, সিসিটিভির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন কার্যকর, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও পথচারী পারাপার ব্যবস্থা, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট পরিচালনার।

পোস্টটি শেয়ার করুন