মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

হাজং ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ১০ বছরের উদ্যোগী তরুণের সংগ্রাম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের লাঙ্গলজোড় গ্রামে এক বন্ধুরা মিলেই হাজং সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন একজন তরুণ। সেই তরুণের নাম অন্তর হাজং, যিনি প্রায় দশ বছর ধরে সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা না পেলেও নিজের আন্তরিকতা ও উদ্যোগে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি হাজং শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাতৃভাষায় কথা বলার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বই, খাতা, কলম ও অন্যান্য শিক্ষণীয় উপকরণ সংগ্রহ করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে হাজং ভাষা দিন দিন হুমকির মুখে রয়েছে। বয়স্ক হাজংরা সবেমাত্র নিজেদের ভাষা বলতে পারলেও শহরে বসবাসকারী শিশুরা ভুলে যেতে বসেছে এই ভাষা। এই পরিস্থিতিতে কেননা, সবাই যদি একসঙ্গে কাজ না করে তাহলে ভাষা রক্ষা অনেক দূর স্বপ্নই থেকে যাবে।

অন্তর বলেন, তিনি দুর্গাপুরের হয়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে হাজংদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছেন। এই সব গ্রামে বসবাসকারী বয়স্কদের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও ভাষার নানাippets সংগ্রহ করেন, যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি আরও জানান, তিনি নিজের অর্থে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ সরকারি বা বেসরকারি এই ধরনের প্রকল্প ও সহায়তা পান না। তার স্বপ্ন, হাজংরা নিজেদের ভাষায় মাতৃভাষায় কথা বলুক এবং সংস্কৃতি হারিয়ে না যায়।

অন্তর বলেন, বাংলাদেশের মোট হাজং সংখ্যা আনুমানিক ১৫ হাজারের বেশি হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা অনেকটাই বেশি। তিনি শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় ঘুরে শুনেছেন ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের দুর্দমনীয় দুর্বলতা। তিনি মনে করেন, এ কাজের জন্য অবশ্যই পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং অর্থায়নই মূল বাধা। তিনি আশাবাদী, এই ভাষা ও সংস্কৃতি কেবল নিজেরাই রক্ষা করতে পারেন যদি সবাই একে অবহেলা না করে। তাঁর উদ্যোগে ভবিষ্যতে আরও নতুন পরিকল্পনা আর অর্থের ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশা করেন, একদিন এই ভাষা ও সংস্কৃতি ফের বাঁচবে এবং হাজং সম্প্রদায় তাদের স্বকীয়তায় ফিরে ফিরে আসবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন