মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বান্দরবানে চিংসা প্রু কেসিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করার দাবি

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ি-বাঙালিসহ সব স্তরের সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য আন্তরিক চেষ্টার অংশ হিসেবে, চিংসা প্রু কেসিকে বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এখানকার বেশ কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই পাহাড়ি-প্রধান জেলা আরও উন্নতির জন্য কার্যকর ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন অনুভব করছেন সাধারণ জনগণ। তারা মনে করেন, চিংসা প্রু কেসি মূলত সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অভিজ্ঞ। এই কারণেই তিনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।

বান্দরবান জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য একজন এমন চেয়ারম্যানের প্রয়োজন, যিনি পাহাড়-সমতল সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন। তাদের দাবি, চিংসা প্রু কেসি সেই যোগ্য ব্যক্তিত্ব, যিনি এই কাজের জন্য উপযুক্ত।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘অর্থের জন্য নয়—যোগ্যতা, সততা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা হলো নেতৃত্বের মূল মানদণ্ড।’ তারা আশা প্রকাশ করেন, এই বিষয়টি এক সিদ্ধান্তে পৌঁছবে যা বান্দরবানবাসীর জন্য কল্যাণকর হবে।

সূত্রের ভাষ্য, চিংসা প্রু কেসি একজন ত্যাগী নেতা, যিনি ১৯৯২ সাল থেকে বিএনপির সাথে যুক্ত। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বান্দরবানের জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে, নেতা সাচিং প্রু জেরীর নির্দেশনায়, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলা এলাকায় বিএনপির সংগঠন সুসংগঠিত করতে অনবদ্য কাজ করেন। তবে, এ ত্যাগ ও পরিশ্রমের পরও তাকে সদ্য ঘোষিত নির্মিত ৪৬ সদস্যের জেলা বিএনপির কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি, যা দলীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, এই ত্যাগী নেতার ন্যায্য মূল্যায়ন দাবি করে তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চিংসা প্রু কেসিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। তারা বলেন, তিনি একসময় সফলভাবে জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বান্দরবান দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি অং চ মং উল্লেখ করেন, এই জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, জনগণ সুফল পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাজকর্মী মং ক্য শৈ নেভী বলেন, ‘জনকল্যাণে নিবেদিত একজন চেয়ারম্যান প্রত্যাশিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দলীয় ও সামাজিক আলোচনায়, যদি চিংসা প্রু কেসিকে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখা হয়, তাহলে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’

তবে, নিজেকে নিয়ে আলোচনা ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে চিংসা প্রু কেসি তার মন্তব্য করতে রাজি হননি, but তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে প্রস্তুত।

পোস্টটি শেয়ার করুন