তিস্তা নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পাড়ের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা কে কেন্দ্র করে কোনও বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, নদীর শাসন ও খননের কাজ সম্পূর্ণ ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় হাতে নেওয়া হবে। সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি emphasized করেন, অতীতে তিস্তা অববাহিকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের কারণে এখানকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি। এজন্য তিনি নতুন করে কোনও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নেওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
মন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে, বিগত সরকারের সময় এই অঞ্চলের প্রতি সাধারণের অবিচার ও অবহেলা ছিল। সেই বৈষম্য দূর করতে এবং bölgাটির উন্নয়নে তিনি বিশেষ দায়িত্ব অনুভব করেন। তিনি বলেন, রংপুরের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতের বাজেটের মধ্যে এই অঞ্চলের জন্য অধিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন। এলাকাটিতে উন্নয়নের জন্য যেসব প্রকল্প নেওয়া হবে, সেগুলো যেন ন্যায্য ও সুবিচারভিত্তিক হয়, এটাই তার প্রধান লক্ষ্য। তাছাড়া, সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট দ্রুত সমাধানে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য মাঠ প্রশাসনকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, অবিরাম বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাটিই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন যেন কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে। বাজার মনিটরিং জোরদার করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও, জনগণের সেবার মান বাড়ানোর জন্য কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
মাদকদ্রব্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সমাজ থেকে এই ব্যাধিগুলো নির্মূল না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপরো গুরুত্ব দেন। সভায় সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত তদারকি ও ফলোআপের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, মন্ত্রী তাঁর দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিন লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সরকারের এই ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগসমূহ বর্তমান সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।





