মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ঈদের আগে শ্রমিকদের মজুরি ও উৎসব বোনাসের জন্য সহজ শর্তে ঋণ চায় বিজিএমইএ

ঈদুল ফিতর আসন্ন থাকায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বেশ কঠিন আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা এবং ঈদ উৎসবের বোনাস সময়মতো দিতে নানা ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো। এই পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ অর্থাৎ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি প্রতিবাদ জানিয়ে গভর্নরের কাছে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার অনুরোধ করেছে। সংগঠনটি বলছে, দুই মাসের মজুরি পরিমাণ অর্থের জন্য ঋণ চাইছে এবং তা এক বছর সময়ে পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খান উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি—যেমন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং চলমান শুল্কযুদ্ধ—দেশের রফতানি আয় ক্রমাগত কমে যাওয়ার জন্য দায়ী। এর ফলে কারখানাগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অর্ডার কমে যাচ্ছে এবং অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

ফ্রেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় দুয়েক মাসের মধ্যে ২৫ দিন কারখানা বন্ধ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মার্চ মাসে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন, ঈদ বোনাস এবং অগ্রিম ৫০ শতাংশ বেতন দিতে হবে। এই সব খরচের কারণে এক মাসেই শ্রমিক বাবদ অর্থের চাপ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে উঠছে। বাড়ছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন এবং পোর্টের চার্জ, পাশাপাশি ব্যাংকের সুদের হারও বেড়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এসব খরচের বোঝা সহ্য করতে সময়মতো অর্থসাহায্য না পেলে শ্রমিকদের অস্থিরতা বাড়তে পারে, বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিজিএমইএ।

তারা আরও জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে পণ্য রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দুই দশমিক চার তিন শতাংশ কমেছে, যার অন্যতম কারণ হলো আগস্ট ২০২৫ থেকে ধারাবাহিক রফতানি প্রবৃদ্ধির পতন। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে রফতানি ১৪.২৩ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১.৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যচাপের কারণে রফতানিকারকেরা প্রত্যাশিত দর পাচ্ছে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাধারণত রফতানি অর্ডার নিশ্চিত করতে কারখানাগুলো ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাঁচামাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে সংগ্রহ করে, যার প্রায় ২০ শতাংশ খরচ আসে শ্রমিকের মজুরি ও পরিচালন খরচে। কিন্তু অর্ডার বিলম্বের কারণে মূলধনের দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা আর্থিক দিক থেকে সংকটে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে, সংগঠনটি দুই মাসের শ্রমিকদের মজুরির সমান অর্থের জন্য সহজ শর্তে ঋণ চেয়েছে। প্রস্তাব করা হয়েছে, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এই ঋণটি ১২ মাসের মধ্যে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে।

বিজিএমইএ বলছে, যদি তড়িঘড়ি সরকার বা ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা না পাওয়া যায়, তবে শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতি দেশের রফতানির গুরুত্বপূর্ন খাতের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন