পঞ্চগড় সুগার মিল বাংলাদেশের একটি ক্রান্তীয় চিনিকল, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মিলটি প্রথমে ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা সদরের ধাক্কামারা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর, ২০২৪ সালের শেষের দিকে করোনা ও অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার মাঝে সরকারের উদ্যোগে এই মিলটিকে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে, রোপণ মৌসুমে ৮টি আখকেন্দ্রের মাধ্যমে ৮৪৬ একর জমিতে আখের চাষ হয়েছিল। এরপর ২০২৫-২৬ মৌসুমে, এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮টি কেন্দ্রে ৯৭০ একর জমিতে আখ চাষ হয়, যার মধ্যে কিছু জমির আখ এখনো সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে এই মৌসুমে আখের চাষে ১২৪ একর জমির বৃদ্ধি দেখা গেছে।
ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী মো. আব্দুর রহিম জানান, পঞ্চগড় জেলায় মোট ৩১টি আখকেন্দ্র রয়েছে, এর মধ্যে ৮টি সরাসরি সচল। এই কেন্দ্রগুলিতে আখের জন্য সংগৃহীত হয় ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মাধ্যমে। পঞ্চগড় সুগার মিল চালুর জন্য প্রয়োজন মোট ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার একর আখের জমি।
অন্যদিকে, মির্জাপুর কেন্দ্রের ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী মো. সফিয়ার রহমান জানান, গত বছর ৭৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছিল, এই বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে েষেঙ ৩৫ হেক্টরে পৌঁছেছে। কৃষকরা বলছেন, যদি আখের চাষে আগ্রহ আরও বাড়ে, তবে দ্রুত মিল চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক মো. আবদুল লতিফ বলেন, আমি চার একর জমিতে আখ চাষ করতাম। মিল বন্ধ থাকায় এখন সেই জমিতে চা চাষ শুরু করেছি। অন্য একজন কৃষক মো. ফজলুল করিম জানান, মিল চালু থাকাকালে দুই একর জমিতে আখ চাষ করতেন, এখন অন্যান্য ফসলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তিনি আশাবাদী, আবার যদি মিল চালু হয়, তবে আবারও আখের চাষ করবেন।
অটোয়ারী উপজেলার কৃষক সুকান্ত রায় বলছেন, আমি প্রায় ৩০ একর জমিতে ঐতিহ্যগতভাবে আখ চাষ করতাম, কিন্তু মিল বন্ধ হওয়ার ফলে এখন মরিচের চাষ করছি। যদি মিল আবার চালু হয়, তবে আবারও আখ চাষে আগ্রহী হবেন না।
পঞ্চগড় সুগার মিলের কাকর্স বাজারের ব্যবসায়ী মো. একরামুল হক মুন্না জানান, মিল চালু থাকাকালে এই বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যবসা হতো। তবে মিল বন্ধ থাকায় কিছু বছর ধরে ব্যবসায় মন্দা চলেছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, পঞ্চগড় সুগার মিল চালু করতে হলে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার একর আখের জমি প্রয়োজন। বর্তমানে ৯৭০ একর জমি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট ২০৩০ থেকে ৩০৩০ একর জমি সংগ্রহের মাধ্যমে মিলের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে। তিনি জানান, যদি প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ পাওয়া যায়, তবে এই মিল পুনরায় চালু সম্ভব।





