রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পেছানোর আবেদন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে তিন বছরের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদনটি বর্তমানে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) দ্বারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও সিডিপির সদস্য দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত সিডিপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তিনি সিডিপির এনহ্যান্স মনিটরিং মেকানিজমের উপকমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশের এই আবেদনটি মূলত ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা সক্রিয় করার জন্য, যা একটি সতকর্তামূলক পদক্ষেপ। এই ব্যবস্থা তখনই ব্যবহার করা হয় যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা বড় সংকটের উদ্‌গতির আশঙ্কা দেখা দেয়।

সিডিপি এখন যাচাই করছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই অস্বাভাবিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে কি না। এই বিশেষ শর্তের আওতায় আবেদনটি কতটা যৌক্তিক, তা তদন্তের মাধ্যমে সিডিপি পরবর্তী মতামত দেবে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সিডিপির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। তাদের সুপারিশ প্রথমে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে পাঠানো হবে। অনুমোদিত হলে তা অগ্রাহ্য হবে না, যুক্ত হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, দেশের ক্ষমতাসীন এন্তার সরকার এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে ছিল না। তবে এখন নতুন সরকারের আবেদনে এই সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালে ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির সূচকগুলোতে উত্তীর্ণ হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছিল।

সাধারণত ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা করা হলেও, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তা দ্বিগুণ সময় বাড়িয়ে ২০২৬ নির্ধারিত হয়। এখন এই সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য আবেদন আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ의 অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন