ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, কিশোরীকে ধর্ষণকারী এবং সালিশদারদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর গ্রামে কিশোরী হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনার পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন। ডিআইজি আরও জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত কিশোরীর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক আরও বলেন, ঘটনার স্থান পরিদর্শন করে নিহত কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। তারা থানার কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করেনি, যার কারণে এই জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, যদি বিষয়টি আগে জানানো হত, তাহলে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি জানান, এ ঘটনায় নরসিংদী সদর থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ধর্ষকদের মধ্যে এক্সন এবাদুল্লাহ ও গাফফার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, সালিশদারদের মধ্যে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, এবং ধর্ষক নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি বিশেষ টিম নরসিংদীর বাইরে কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, আমি এক সময় ডিবিতে কর্মরত ছিলাম, এখন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি। আপনারা সবাই আমার পরিচিত। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যাতে কেউই অপরাধীদের ছাড় পায় না। সব আলামত, সব দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এআরএম আল-মামুন।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী আসমাকে তার নেতৃত্বে থাকা ৬ জন বখাটে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছিল। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান নিরপেক্ষ বিচার করে দিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে তিনি অপরাধীদের সঙ্গে আপস করে ব্যাপারটি ধামাচাপা দিয়েছেন। তিনি অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি গোপন রেখেছেন। পাশাপাশি, ধর্ষিতার পরিবারকে ঘর ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। আসমার পরিবার অভিযোগ করেন, বিচার না পেয়ে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পরে, বখাটে চক্রটি মদদ দিয়ে কিশোরী আসমাকে তার বাবার সামনে থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখা হয়।





