প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী রাতভর ব্যাপক আকারে চালিয়েছে সামরিক হামলা। এই জঙ্গিবিরোধী অভিযানেই অন্তত ২৭৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত ও চারশোর বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটলো।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘গজব আল-হক’ নামে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতে আফগানিস্তানের ৮৩টি সীমান্ত চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে এবং ১৭টি দখল করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১১৫টি ট্যাংক, আর্টিলারি ইউনিট ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের খবরে জানানো হয়। তবে এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ১২ সেনা নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারত এই বিমান হামনাকে নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বেশ কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। ওই সময়ের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন আলোচনা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য ব্যবহার হচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ





