শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও তেহরানের পাল্টা আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক শ্রমসঞ্জাত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি সামরিক কার্যক্রম আরও পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের যুদ্ধের অভিযান’ শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে একই দিন, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ওই হামলায় অংশ নিয়েছে ইসরায়েল, যা মার্কিন প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করে থাকলেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্র দিয়ে ইরানকে জবাব দিতে শুরু করেছে।

এই উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায়, তেহরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, কাতার ও বাহরাইনের মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে দুচিন্তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কাতারসহ বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশ দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠিয়ে তাদের নাগরিকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সকল সামরিক স্থাপনায় আত্মরক্ষার জন্য সাধারণ জনগণকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বাহরাইনের মানামা শহরে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার মধ্যে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। দোহা, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পর এক শক্তিশালী হুঁশিয়ারী দিয়ে বলছেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেবো এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণরূপে ধুলিসাৎ করব। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করব।’ তিনি আরও জানান, ‘এই অঞ্চলে আর কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা দেশ অস্থিতিশীল করতে পারবে না। আমরা নিশ্চিত করি, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এটা একটি পরিষ্কার বার্তা যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী শক্তিশালী এবং কেউ এর চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।’

এদিকে, ইরান এটি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবেই দেখছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।’ সৌদির আঞ্চলিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কাতার তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমা বেশ কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, মূল লক্ষ্য এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, পুরো অঞ্চল এখন চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শান্তির স্থাপনা এখন দুরবর্তী মনে হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন