দলের প্রধান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড ছাড়াই মাঠে নামলেও তার আনুপস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি মানচেস্টার সিটির পারফরমেন্সে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার বদলে মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ নিজের ধৈর্য্য ও দক্ষতা দিয়ে পুরো ম্যাচ জুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। দুর্দান্ত জোড়া গোলের সাহায্যে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ম্যাচে যেমনই হোক না কেন, সিটি তাদের অসাধারণ ফুটবল ও প্রতিশ্রুতিশীল পারফরমেন্স দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে কেন বর্তমান ফুটবলের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য দল তারা।
এই পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচের শুরুতে নিউক্যাসলের আক্রমণাত্মক খেলা সামনের দিকে কিছুটা হাই সমস্যা সৃষ্টি করলেও, প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলিয়ান তারকা সাভিনহোর সমতাসূচক গোলটি ম্যাচের ছবি বদলে দেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এসে মারমুশের ব্যতিক্রমী ঝড় শুরু হয়। অসাধারণ ফিনিশিং দিয়ে দুটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। বিশেষ করে, মারমুশের করা ১৪টি গোলের অর্ধেকই এসেছে নিউক্যাসলের বিপক্ষে, যা খেলার মাঠে তার অপ্রতিরোধ্য অবস্থান নিশ্চিত করে। ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় তাকে কোচ গার্দিওলা অনুভূতি প্রকাশ করে বাহবা বা্ঢিয়ে বলেন, তিনি একজন “শীর্ষ স্ট্রাইকার”।
এফএ কাপের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মানচেস্টার সিটি একদমই হার মানাতে পারেনি। শেষ ২১ ম্যাচের মধ্যে ১৯টিতে জয় লাভ করেছে তারা। একমাত্র গত দুই বছরের ফাইনালে পরাজয় ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা যাচ্ছে। দলকে নানা পরিবর্তন করেও তারা খেলছে অসাধারণ প্রতিপূর্ণ। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্রুতই তারা তৃতীয়বারের মতো এই পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।
অপরদিকে, এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল ও চেলসিটিও। আর্সেনাল প্রায় ৯৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টারফিল্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে। এই জয়ে তারা শেষ আটে প্রবেশের পাশাপাশি চারটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেছে। অন্যদিকে, চেলসিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় রেক্সহ্যামের বিপক্ষে। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, সেখানে ব্লুজরা ৪-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে। এইভাবে, এফএ কাপের নকআউট পর্ব এখন চূড়ান্ত রোমাঞ্চের অপেক্ষায় রয়েছে।





