বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২

এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সোমবার (৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভার পরে জানা যায়। এতে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্যই এই গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র ইতিমধ্যেই রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জেলা কমিটির কাছ থেকে জুরাছড়ি উপজেলায় ৮৭ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটিকে ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে, পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে পুরো কমিটি একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। পদত্যাগকারীদের মতে, তারা জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি দলটির স্বকীয়তা ও মূল আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে তারা মনে করছেন।

অসিম চাকমা আরও জানিয়েছেন, বর্তমান দলের নীতিনির্ধারকারী সিদ্ধান্তগুলো তাদের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অবস্থানের সাথে মেলে না বলেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার মতে, দলটি স্বতন্ত্রভাবে জুলাইয়ের বিপ্লবের স্বপ্নকে সামনে রেখে কাজ করবে—কিন্তু জোট ও তার রাজনীতি সে প্রত্যাশাকে ব্যাহত করেছে। তাই তারা আদর্শের প্রশ্নে আপস না করে পদত্যাগ করাই যথার্থ মনে করেছেন। রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, এই বড় ধরনের গণপদত্যাগকে কেন্দ্র করে দলটির উচ্চপর্যায়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেতা মনজিলা সুলতানা ঝুমা বলেছেন, তারা নিয়ম মাফিক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যদি জোট বা জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্টতা মূল কারণ হয়, তবে এটি নির্বাচনের আগেই জানা উচিত ছিল। ভোটের পরে এমন পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। অবশ্য, অসিম চাকমা স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিজস্ব ইচ্ছায় এবং দলীয় আদর্শ রক্ষার স্বার্থে নেওয়া। পার্বত্য এলাকায় এই বড় পদত্যাগের ফলে এনসিপির আঞ্চলিক সংগঠনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের শূন্যতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন