বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে অর্থনীতিতে আশঙ্কা প্রকাশ ডিসিসিআইয়ের

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সম্প্রতি স্মরণ করিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। এই সংকট ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চল, যেখানে বিশ্বের বৃহৎ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের বড় একটি অংশ আসে, সেখানে সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঝুঁকি বহন করছে।

সংগঠনটির বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ পর্যায়ে স্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। বর্তমানে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ মার্কিন ডলার বাড়লে, মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও ব্যালেন্সের উপর চাপ এসে পড়বে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক এই সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থায় পড়ছে। বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে বহন হয়। এই রুটে দীর্ঘমেয়াদী বিঘ্ন হলে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ফ্রেইট চার্জ, বীমা প্রিমিয়াম ও সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে, দেশের মূল রফতানিমুখী শিল্পখাত—বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প—উপযুক্ত লজিস্টিক ব্যয়, সরবরাহে বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে পরিবহণের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। পাশাপাশি, গত সাত মাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

ডিসিসিআই মনে করছে, এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী বা ব্যাপক আকার ধারণ করে, তাহলে দেশের ব্যয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর প্রবাসী আয়ের প্রবাহও বিঘ্নিত হতে পারে।

সংগঠনটি আরও পরামর্শ দিয়েছে, অতি প্রয়োজনীয় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে আগাম ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শক্তিশালী জ্বালানি মজুত তৈরি, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার।

তাছাড়া, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক সংঘাত শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নয়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন