অ্যারন স্লটের অধীন লিভারপুলের কোচিং জীবনের শততম ম্যাচটি হতাশার মধ্য দিয়ে শেষ হলো। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তারা তুর্কি ক্লাব গ্যালাতাসারেইর বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে। ইস্তানবুলের রামস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই গায়েব ছিল লিভারপুলের ফুটবল। কোচ হিসেবে মাইলফলক স্পর্শের দিনটিও মাঠের খেলায় কোনো উচ্ছ্বাস বা উৎসবের প্রতিফলন দেখাতে পারেনি ডাচ কোচ। বরং গত সেপ্টেম্বরের লিগে হারের পুনরাবৃত্তিই আবারো লিভারপুলকে খাদের কিনারায় নিয়ে আসে।
ম্যাচের প্রথম কিছু মুহূর্তেই দুঃসংবাদ এসে হাজির হয় দলের জন্য। মাত্র সাত মিনিটে গ্যালাতাসারেইরের এক কর্নার থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন মিডফিল্ডার মারিও লেমিনা। এই সময় লিভারপুলের রক্ষণভাগের ফুটবলাররা ছিলেন অনেকটাই নির্লিপ্ত, যার ফলে ম্যাচ শেষে দলের প্রতি সমালোচনাও উঠে আসে। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অনেক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, ফলে ম্যাচে ফিরতে একটু দেরি হয়। অনাকাঙ্খিতভাবে, নিয়মিত গোলরক্ষক আলিসন বেকারের বদলে খেলতে নামেন জর্জি মামারদাশভিলি, তবে তাঁর কিছু কটাক্ষ করেন দলের সমর্থকরা।
দ্বিতীয়ার্ধ ছিল নাটকীয়তার পুরোটাই, যেখানে ভিএআর-এর কারণে একাধিক সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়ায়। গ্যালাতাসারেইরের ভিক্টর ওশিমেনের জোড়া গোলের আবেদনের পর ধরা পড়েছে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এই সিদ্ধান্তে একটু স্বস্তি পায় ডিফেন্স, কিন্তু পরে আরেকটি গোল বাতিল হওয়ায় লিভারপুলের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কমনাটের হেডে সমতা ফেরার প্রত্যাশায় জেএসপি যোগায়, কিন্তু হ্যান্ডবল বলে সিদ্ধান্ত হয় গোল বাতিল।
এই পরাজয়ের ফলে লিভারপুলের কয়েকটি ম্যাচে চলা দুর্দশার অবসান হয়নি। প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে হেরে তারা বিদায় নেওয়ার পথে। আগামী বুধবার অ্যানফিল্ডে ভরা উদ্দীপনায় ফিরতে চায় তারা, যেখানে তাদের লক্ষ্য হলো দুই গোলের ব্যবধানের মধ্যে জয় हासिल করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকে থাকতে হলে এখনই স্লটের দলের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল তৈরি করতে হবে, কারণ প্রত্যাশা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে, অ্যানফিল্ডের মাঠে লিভারপুলের ফেরার লড়াই এখন উত্তেজনার চরমে পৌঁছেছে।





