বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২

শাকিবের ‘প্রিন্স’ দিয়ে আবারও চালু হচ্ছে বগুড়ার মধুবন

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও দর্শকদের বরণ করে নিতে

প্রস্তুত হচ্ছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মধুবন সিনেপ্লেক্স। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব

খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসন্ন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকে এটি পুনরায় যাত্রা শুরু করবে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর

টানা লোকসানের মুখে বন্ধ ঘোষণা করা প্রেক্ষাগৃহটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শাকিবের

মেগা ছবির মাধ্যমে, যা স্থানীয় চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি

করেছে।

প্রেক্ষাগৃহের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানিয়েছেন, মাসের পর মাস আর্থিক ক্ষতির ভার

বইতে গিয়ে তারা এক পর্যায়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন

হয়েছিলেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত সেপ্টেম্বরে মধুবন সিনেপ্লেক্স অনির্দিষ্টকালের

জন্য বন্ধ করতে হয় এবং ভবনটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল।

তিনি অপেক্ষায় ছিলেন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার, যাতে শিল্পটি নিয়ে নতুন কোনো

পরিকল্পনার পথ প্রশস্ত হয়। ইউনুস রুবেলের কাছে এই সিনেপ্লেক্সটি নিছক ব্যবসা নয়,

বরং তাঁর বাবার হাতের ছোঁয়া আর পারিবারিক আবেগ-স্মৃতির এক অমূল্য প্রতীক।

প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসার বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে তিনি বড় ধরণের উদ্যোগের প্রত্যাশা

করছেন সরকারের কাছে। মালিক পক্ষের দাবি, দেশে নির্মিত মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রের

পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই কিংবা হলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা আমদানির অনুমতি না দিলে

কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এসব আধুনিক সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বিশেষ

করে আমদানিকৃত মানসম্মত বিদেশি ছায়াছবি সিনেমা হল সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে

পারে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, বগুড়া জেলা একসময় চলচ্চিত্রের উর্বর ভূমি ছিল, যেখানে একযোগে ৩৮টি সিনেমা

হল চলত। সময়ের বিবর্তনে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে সারা জেলায়

টিকে আছে মাত্র ৭টি হল। এর মধ্যে শহরের মূল কেন্দ্রে টিকে থাকা দুটি হলের একটি হলো

এই মধুবন। তাই মধুবনের আবারও সচল হওয়ার খবরটি গোটা উত্তরের চলচ্চিত্র পাড়ায় একটি

ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচিত নতুন সরকার সিনেমা হল মালিকদের বাঁচাতে

কার্যকর ভূমিকা নেবে এবং বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করবে—এমনই জোরালো

আশা ব্যক্ত করেছেন মধুবন কর্তৃপক্ষ।

পোস্টটি শেয়ার করুন