শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২

যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বকাপে, ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে অনিশ্চয়তা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন মাসেরও কম সময় বাকি। তবে ইরান আদৌ এই

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু

হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে

দাঁড়ানোর পরামর্শ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরেই এই অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তা ইতোমধ্যে দ্বিতীয়

সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংঘাত এখন আর শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব

বৈশ্বিক নানা ক্ষেত্রেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো

ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপও সেই প্রভাবের বাইরে থাকছে না।

ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলাকে ঘিরে

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরান। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেই বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব

দিচ্ছেন না।

পরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান,

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবে। তবে এরপর আবারও ট্রাম্প ইরানকে

বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন এবং বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায়

নেওয়া উচিত।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের

অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়,

‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আয়োজন। এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, কোনো

ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের সাহসী ফুটবলারদের শক্তি ও ধারাবাহিকভাবে পাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে ইরান জাতীয় দল এ বড় টুর্নামেন্টে সবার আগে যোগ্যতা অর্জন

করা দলগুলোর একটি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিশ্চিতভাবে কেউ ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে

পারবে না। বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা শুধু “আয়োজক” নামটি বহন করে কিন্তু এই

বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প

লিখেছিলেন, ‘ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবন ও

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি সত্যিই

মনে করি না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি

জানায়, তাহলে ফিফা আয়োজক দেশের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্বও কেড়ে নিতে পারে।

এর আগে এমন নজির রয়েছে। তিন বছর আগে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে ইসরায়েল দলকে স্বাগত

জানাতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব বাতিল করে ফিফা এবং

পরে টুর্নামেন্টটি আর্জেন্টিনায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ

মিশন শুরু করার কথা ইরানের। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে

নামবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

পোস্টটি শেয়ার করুন