, ,

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহত ১২ জনের মধ্যে যশোরের পাঁচজন

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২

জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর সূত্রে

তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন যশোর জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই

শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) এবং কোহিনূর বেগম

(৫৫)। এছাড়া নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির বাবুল চৌধুরী (৫৫) ও ফাজিলপুরের নজরুল ইসলাম

রায়হান (৪৫) রয়েছেন নিহতদের তালিকায়।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪),

মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (২৫) এবং লক্ষ্মীপুরের শিশু

সাঈদা (৯)।

শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার

রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হন

এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে আসা

উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়া হলে সকাল ১১টার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। আটকে

থাকা মহানগর প্রভাতি ও কর্ণফুলী ট্রেনও গন্তব্যে রওনা দেয়।

ঘটনার পর সকাল থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ে। ঘটনাস্থলে দেখা যায়,

রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের প্রতিবন্ধক অক্ষত রয়েছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাসের ভাঙা কাচ।

রেললাইনের কিছু দূরে বাসের দুটি চাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কাছেই রেলের কর্মীদের

একটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গেটম্যান পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুই গেটম্যান

মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম

বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও

জোনাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা

তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

তদন্তে আসা পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে

নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনার সময় গেটম্যান গেট না ফেলায় বাস রাস্তা ফাঁকা পেয়ে রেল

লাইনে উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।’

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা

শেষে বাড়ি ফিরেছেন, বর্তমানে পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, নিহতদের

প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে

পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা আরও জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেও সাড়া

পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে

উদ্ধার অভিযান চালায় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘বাস চালকের ভুলের কারণে

এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল

থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’

পোস্টটি শেয়ার করুন