বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

ফয়সাল-আলমগীরকে দিল্লিতে নিয়ে গেল তদন্ত সংস্থা

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও

আলমগীরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) দিল্লিতে নিয়ে

গেছে। মঙ্গলবার তাদের দিল্লির এনআইএ আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার রাতেই কলকাতা থেকে তাদের দিল্লিতে স্থানান্তর করা

হয়।

এর আগে ২২ মার্চ কলকাতার বিধাননগর আদালতে দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে

আবেদন করে এনআইএ। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে এনআইএ ভারতে গ্রেপ্তার তৃতীয়

বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে হেফাজতে নেয়ার আবেদন করেনি বলে আইনজীবী সূত্রে

জানা গেছে।

তবে পরদিন ২৩ মার্চ নতুন করে আদালতে আবেদন করে সংস্থাটি জানায়, দমদম কেন্দ্রীয়

কারাগারে নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছে এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় না।

এরপর আদালত তাদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

রোববার (২২ মার্চ) একই মামলায় ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে

পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক নিশান মজুমদার।

এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ও এনআইএ কারাগারে গিয়ে

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তাদের ২ এপ্রিল আবার আদালতে তোলার কথা ছিল।

দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ’র ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা

করা হয়েছে। এসব ধারায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগ

আনা হয়। প্রমাণিত হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং

অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ফয়সাল করিম দাবি করেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে

জড়িত নন। তার ভাষ্য, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাকে

গুলি করতে দেখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন, যদিও পরে

ভারতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেননি।

এর আগে ২২ মার্চ ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। তার

আগে শারীরিক পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

গত ৭ মার্চ রাতে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা

থেকে ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। পরদিন ৮

মার্চ আদালতে তোলা হলে তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এদিকে, একই মামলায় ২১ মার্চ বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকেও ১৪ দিনের জেল হেফাজতে

পাঠিয়েছে আদালত। তাকে ৩ এপ্রিল আবার আদালতে তোলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, আলোচিত এই

হত্যাকাণ্ডের তিন অভিযুক্তের শিগগিরই বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন

সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ঢাকার পুরানা পল্টন

এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর

তিনি সেখানে মারা যান।

এরপর পুলিশি তদন্তে ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে

অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ১২

জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন।

পোস্টটি শেয়ার করুন