ইরানের অব্যাহত সামরিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এখন তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চূড়ান্ত
পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে
দাবি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চললেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
এখন তাদের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য ঠেকাতে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে সামরিক সহযোগিতার পথে হাঁটছে। বিশেষ করে
রিয়াদে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব তাদের কৌশলগত কিং
ফাহাদ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে মার্কিন বাহিনীকে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানি
হামলার মুখে তাদের ধৈর্যের সীমা অসীম নয় এবং কেউ যেন তাদের সক্ষমতাকে ভুলভাবে
পরিমাপ না করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন পাল্টাহামলার বিষয়ে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ এক মাস পূর্ণ হওয়ার
মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের আর্থিক লাইফলাইন লক্ষ্য করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ
শুরু করেছে।
দুবাইয়ে অবস্থিত ইরানিয়ান হাসপাতাল ও ইরানিয়ান ক্লাব ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া
হয়েছে এবং আমিরাত সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ইরানি মালিকানাধীন শতকোটি ডলারের
সম্পদ জব্দ করতে পারে, যা সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিতে পারে।
সৌদি আরব ও আমিরাতের পাশাপাশি কুয়েত এবং কাতারও তাদের জ্বালানি স্থাপনায়
সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। কাতার এই
হামলাগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বর্তমানে এই দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি তাদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে তবে এই
অঞ্চলে একটি সরাসরি ও বড় ধরনের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়বে।
সূত্র: আনাদোলু





