বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় পতন, সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

ঈদের আগে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের

শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। অধিকাংশ খাতের কোম্পানির শেয়ারদর কমে

যাওয়ায় প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়, যদিও সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম

বেড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ

প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে থাকে, ফলে সূচক দ্রুত ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

মাঝপথে মিউচুয়াল ফান্ডে কিছুটা ইতিবাচক ধারা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা সামগ্রিক

পতন ঠেকাতে পারেনি।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবে টানা দরপতনের পর ঈদের

আগের শেষ কার্যদিবসে বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের

মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও ছুটির পর প্রথম দিনেই সেই প্রত্যাশা ভেঙে যায়।

দিনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ খাতের শেয়ারদর নিম্নমুখী থাকে এবং শেষদিকে পতনের গতি

আরও বাড়ে। ফলে সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়লেও সার্বিকভাবে বাজার বড় পতনের

মধ্যেই লেনদেন শেষ করে।

দিন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমেছে ২৪৩টির এবং

অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম

বাড়লেও ১২২টির কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়,

যেখানে দাম বেড়েছে ২২টির এবং কমেছে ৫০টির।

লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির

কমেছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বেড়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট

কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে নেমে আসে। পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার

৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে

অবস্থান করে।

সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২

কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭

লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ

টাকার। এরপর রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং রবি ১৫ কোটি ৬৬ লাখ

টাকার লেনদেন নিয়ে।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট

এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং

ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট

কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির

কমেছে এবং ২৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা,

যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

পোস্টটি শেয়ার করুন