বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬, ১২ই চৈত্র, ১৪৩২

আন্দ্রে রাসেলের ‘১২’ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠাল কলকাতা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট

রাইডার্স (কেকেআর) তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকে এক বিরল ও

বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে। কেকেআর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে,

ক্যারিবিয়ান এই তারকার ব্যবহৃত ‘১২’ নম্বর জার্সিটি তারা চিরতরে অবসরে পাঠানোর

সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো ক্রিকেটার কলকাতার জার্সিতে এই

নির্দিষ্ট নম্বরের জার্সি পরে মাঠে নামতে পারবেন না। আইপিএল ২০২৬ মৌসুম শুরু হওয়ার

ঠিক আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এই পদক্ষেপ মূলত রাসেলের এক দশকেরও বেশি সময়ের ত্যাগ,

নিষ্ঠা এবং অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা

হচ্ছে।

আন্দ্রে রাসেল ও কেকেআরের মধ্যকার সম্পর্কটি কেবল পেশাদারিত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ

থাকেনি, বরং এটি এক গভীর আত্মিক বন্ধনে রূপ নিয়েছে। গত মৌসুমে রাসেলকে খেলোয়াড়

হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হলেও তিনি অন্য কোনো দলের হয়ে নিলামে অংশ নেননি। বরং নিজের প্রিয়

ক্লাব কলকাতার সাথেই যুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০২৬ আসরের জন্য দলটির ‘পাওয়ার

কোচ’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই আইপিএলে একজন

খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। রাসেলের এই অবদানকে স্মরণীয়

করে রাখতেই জার্সি নম্বর ১২ অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেকেআর ম্যানেজমেন্ট।

কলকাতার বেগুনি-সোনালি জার্সিতে রাসেলের পরিসংখ্যান আক্ষরিক অর্থেই ঈর্ষণীয়।

কেকেআরের হয়ে মোট ১৪০টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ২ হাজার ৬৫১ রান সংগ্রহ করেছেন।

সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো তাঁর ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট, যা ১৭৪.১৭— যা আইপিএলের

ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী হিসেবে বিবেচিত। কেবল ব্যাটিংয়েই নয়, বল হাতেও তিনি ছিলেন

সমান কার্যকর; শিকার করেছেন ১২৩টি উইকেট। বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে কলকাতার

আইপিএল শিরোপা জয়ের নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বহু ম্যাচ তিনি একাই খাদের

কিনারা থেকে টেনে তুলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন, যা তাঁকে ভক্তদের কাছে

‘রাসেল মাসল’ হিসেবে কিংবদন্তিতুল্য পরিচিতি দিয়েছে।

কেকেআরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভেঙ্কি মাইসোর এই সিদ্ধান্তের

প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান যে, রাসেলের পরিচয় ১২ নম্বর জার্সির সাথে ওতপ্রোতভাবে

জড়িয়ে গেছে। মাঠে তাঁর উপস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি করত, তা ভোলার

মতো নয়। তাই তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য এই জার্সিটি অবসরে রাখা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো

ভালো উপায় ছিল না। অন্যদিকে, এমন বিরল সম্মানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্বয়ং আন্দ্রে

রাসেলও। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার হয়ে এই দীর্ঘ পথচলা তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ

অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। দুটি শিরোপা জয় এবং সমর্থকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাঁকে

আজীবনের জন্য ঋণী করে রেখেছে।

উল্লেখ্য যে, আইপিএলে কোনো কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের সম্মানে জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানোর

সংস্কৃতি খুব একটা পুরনো নয়। এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের অবিসংবাদিত নেতা ও

ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের সম্মানে তাঁর ব্যবহৃত ১০ নম্বর জার্সিটি অবসরে

পাঠিয়েছিল। এছাড়া রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও তাদের দলের

সফলতম ক্রিকেটারদের জন্য একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবার সেই অভিজাত তালিকায়

যুক্ত হলেন আন্দ্রে রাসেল, যা আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর অনন্য

উচ্চতাকেই প্রমাণ করে। কেকেআর ভক্তরা এখন তাঁকে নতুন ভূমিকায় ডাগআউটে দেখার

অপেক্ষায় রয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন