বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আরিফিন শুভর রাজকীয় অভিষেক: সনি লিভে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে ‘জ্যাজ সিটি’

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এবার আন্তর্জাতিক

অঙ্গনেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন। ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে

মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ এখন ভারতে জনপ্রিয়তার

তুঙ্গে রয়েছে। মুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সিরিজটি দর্শকপ্রিয়তার সব রেকর্ড

ভেঙে টানা দুই দিন ধরে ভারতের ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। আরিফিন

শুভর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং ঢালিউডের

শিল্পীদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত

হচ্ছে।

গেল ১৯ মার্চ সনি লিভে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় ১০ পর্বের এই দীর্ঘ ওয়েব সিরিজ।

প্রায় ৮ ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই প্রোডাকশনটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের নজর

কাড়তে শুরু করে। গত ২৩ মার্চ এটি প্রথমবারের মতো সনি লিভের ভারতীয় ট্রেন্ডিং

চার্টের এক নম্বর অবস্থানে উঠে আসে এবং আজ ২৪ মার্চও সেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

শুধু সাধারণ দর্শকই নন, ভারতের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতেও আরিফিন শুভর অনবদ্য

অভিনয় নিয়ে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম আর আন্তর্জাতিক

মানের নির্মাণের মেলবন্ধনে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজের পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘জিমি রয়’-কে

কেন্দ্র করে, যা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন আরিফিন শুভ। এই

চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে চারটি ভিন্ন ভাষায় সংলাপ বলতে হয়েছে— বাংলা, হিন্দি, উর্দু

ও ইংরেজি। বহুজাতিক প্রেক্ষাপটের এই সিরিজে শুভর সাবলীল বাচনভঙ্গি এবং অভিনয়শৈলী

ভারতীয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। উল্লেখ্য যে, হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি এই সিরিজের

মাধ্যমেই সনি লিভ প্রথমবারের মতো তাদের প্ল্যাটফর্মে বাংলা ভাষায় কোনো অরিজিনাল

কন্টেন্ট প্রকাশ করল, যা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ প্রাপ্তি।

সিরিজটি পরিচালনা করেছেন বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার সৌমিক সেন,

যিনি এর আগে ‘জুবিলি’র মতো জনপ্রিয় সিরিজের সহ-স্রষ্টা হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত

হয়েছেন। সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার

পরিচিত মুখ সৌরসেনী মিত্র। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন

শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার,

অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহার মতো দক্ষ অভিনয়শিল্পীরা। শিল্পীদের এই চমৎকার

রসায়ন এবং গল্পের গভীরতা সিরিজটিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

‘জ্যাজ সিটি’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সত্তরের দশকের উত্তাল

পটভূমিতে। সেই সময়ের জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের অভ্যন্তরীণ

টানাপোড়েন এবং ইতিহাসের বাঁক বদলের এক নিখুঁত চিত্রায়ন এই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রোমাঞ্চকর গল্পের সংমিশ্রণ সিরিজটিকে সাধারণ থ্রিলারের

চেয়ে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। প্রথম প্রজেক্টেই এমন রাজকীয় সাফল্য আরিফিন শুভকে ভারতের

বিশাল বিনোদন বাজারে স্থায়ী ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন

চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ ও গল্পের অভাব না থাকলে

বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরা যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব

প্রমাণ করতে সক্ষম।

পোস্টটি শেয়ার করুন