রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২

ওটিটি কাঁপিয়ে এবার বড় পর্দার ত্রাস: ‘রাক্ষস’ দিয়ে ঢালিউডে ভিলেন হিসেবে নতুন যাত্রা সোহেল মণ্ডলের

দুই দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে নিজেকে বারবার ভেঙেছেন এবং গড়েছেন অভিনেতা সোহেল

মণ্ডল। মঞ্চনাটক দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রাপথ নাটক ও সিনেমার অলিগলি পেরিয়ে

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে এক অনন্য উচ্চতা লাভ করেছে। ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং

চরিত্রে অভিনয় করে ইতিমধ্যে বোদ্ধা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ালেও এবারের ঈদুল ফিতরে

তিনি হাজির হয়েছেন এক সম্পূর্ণ নতুন অবতারে। তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের

ডার্ক-থ্রিলার সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ দুর্ধর্ষ ভিলেন বা খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে

রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মুখে এখন

কেবল সোহেল মণ্ডলের অভিনয়ের জয়গান।

‘রাক্ষস’ সিনেমায় সোহেল মণ্ডলের লুক এবং অভিনয়শৈলী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও

উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। ঈদের দিন থেকেই তিনি সিনেমার প্রচারণায় বিভিন্ন

প্রেক্ষাগৃহে ঘুরছেন এবং সরাসরি দর্শকদের ভালোবাসা ও প্রশংসা গ্রহণ করছেন। এই

সাফল্যকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই অভিনেতা। তিনি জানিয়েছেন যে, দর্শকদের যেকোনো

ধরণের স্বীকৃতিই শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করে। হলে এসে মানুষ যখন ‘রাক্ষস’ দেখছেন এবং

তাঁর অভিনীত চরিত্রটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন, তখন একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি

চরম তৃপ্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। মূলত ওটিটির চেনা গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক সিনেমার

পর্দায় তাঁর এই বিধ্বংসী উপস্থিতি ঢালিউডে নতুন এক শক্তিশালী খলনায়কের আগমনী বার্তা

দিচ্ছে।

এই বিশেষ চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে সোহেল মণ্ডলকে বেশ পরিশ্রম করতে

হয়েছে। তিনি জানান, আগে থেকেই তিনি নিজের শারীরিক ফিটনেস নিয়ে কাজ করছিলেন, আর ঠিক

সেই সময়েই ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাবটি আসে। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় যখন

তাঁকে চরিত্রটির গভীরতা ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ব্রিফ করেন, তখন থেকেই মানসিকভাবে

তিনি নিজেকে সেই ছাঁচে ঢালতে শুরু করেন। তবে কেবল নিজের চেষ্টা নয়, এই ভয়ংকর লুক

ফুটিয়ে তুলতে সিনেমার মেকআপ আর্টিস্ট এবং কস্টিউম ডিজাইনারদের বিশেষ অবদানের কথাও

কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই পর্দায় ‘রাক্ষস’-এর

সেই রহস্যময় ও ত্রাস সৃষ্টিকারী খল চরিত্রটি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

বাণিজ্যিক সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে সোহেল মণ্ডলের এটিই প্রথম কাজ নয়। এর আগে ২০১৬

সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুসাফির’ সিনেমায় তাঁকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। তবে

প্রায় এক দশক পর আবারও বড় পর্দায় ভিলেন হিসেবে ফিরলেন তিনি। তাঁর মতে, ‘মুসাফির’-এর

সেই চরিত্রের চেয়ে ‘রাক্ষস’-এর এই চরিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার এবং অনেক বেশি

বিস্তৃত। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি যুতসই

সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, যা নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় তাঁকে করে দিয়েছেন। এই

সুযোগের জন্য তিনি নির্মাতার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মনে করেন যে এটি

তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে আবারও এমন নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল

মণ্ডল জানান যে, তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে রাখতে চান না। একজন জাত

শিল্পী হিসেবে তিনি সবসময়ই নানা ধরণের চরিত্রে কাজ করতে আগ্রহী। যে গল্প এবং চরিত্র

তাঁর শৈল্পিক সত্তাকে তৃপ্ত করবে, সেটিই তিনি গ্রহণ করবেন—তা সে নায়ক হোক, খলনায়ক

হোক কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। আপাতত ‘রাক্ষস’-এর অভাবনীয় সাফল্য উপভোগ

করছেন তিনি এবং আশা করছেন যে এই সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে বৈচিত্র্যময় চরিত্রের

জয়গান আরও সুসংহত হবে। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে সোহেল মণ্ডল এখন বড় পর্দার এক

অপরিহার্য নাম হয়ে উঠছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন