বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২

কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ড্রোন হামলা: জ্বালানি ডিপো ও অবকাঠামোতে অগ্নিকাণ্ড

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এখন চরমে পৌঁছেছে যখন ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এই সুপরিকল্পিত হামলায় বিমানবন্দরটির এক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্য করে একটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নেয়।

কুয়েতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি বলেছেন, ইরানের এই ‘নির্লজ্জ’ ড্রোন হামলা মূলত বিমানবন্দরের সেই অংশে আঘাত হেনেছে যেখানে বড় বড় জ্বালানি ট্যাংকার রাখা ছিল। ড্রোনের বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা আগুনে ভস্মীভূত হয়। যদিও এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর জানানো হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার ফলে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অপর দিকে, একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনের উপরেও ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি অগ্রাসনে তারা একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন প্রতিষ্ঠান هدفবস্তু হয় তা প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এর একদিন পূর্বে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কোম্পানি ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর উপর হামলার ঘোষণা দেয়।

এই ধারাবাহিক হামলার পেছনে রয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আক্রমণের প্রতিশোধ। এর জের ধরে ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তেহরান অভিযোগ করে যে, কুয়েত ও বাহরাইনের মত দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপর মার্কিন সেনাদের ব্যবহার অনুমোদন দিয়ে ইরানের নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করছে। মূলত, ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের খেয়াল রাখতে এই মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে ইরান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এই পরিস্থিতি নজিরবিহীন সতর্কতা জারি করতে বাধ্য করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ওবিমান চলাচলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভবত বড় ভাষণ এবং ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের পথে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ববাসী এখন এই পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগে রয়েছে এবং পরবর্তী ঘটনায় নজর রাখছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন